বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাস (২০০৫–২০২৫)
বিমানবাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, F‑7BGI যুদ্ধবিমানটি উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরই “টেকনিক্যাল ম্যালফাংশন” এর সম্মুখীন হয়।
-
ইঞ্জিনের একটি অংশে দ্রুত তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং হাইড্রলিক সিস্টেমে সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
-
পাইলট বারবার কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন এবং খোলা জায়গায় ল্যান্ডিংয়ের চেষ্টা করছিলেন।
পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ তৌকির ইসলাম জনবহুল এলাকাকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য ল্যান্ডিংয়ের চেষ্টা করেছিলেন।
-
কিন্তু ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং উচ্চতা কম থাকায় তিনি বিমানটিকে স্কুল বিল্ডিংয়ের উপরে ক্র্যাশ থেকে বাঁচাতে পারেননি।
সেটি চীনের তৈরি Chengdu F‑7BGI মডেলের একটি যুদ্ধবিমান
এগুলো মূলত ট্রেইনিং ও হালকা যুদ্ধ মিশন এর জন্য ব্যবহার করা হয়।
প্রথম ৬–৮ বছরে ছোটখাটো মেরামত ও সিস্টেম চেক হয়।
-
প্রায় ৮–১০ বছরে একবার “মেজর ওভারহল” করতে হয়।
-
ওভারহল না করলে যান্ত্রিক ত্রুটি বা ফাটল হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
উৎপাদন বছর: ২০১২–২০১৩
- এই বিমানটির বয়স প্রায় ১২ বছর
🛩 সংবাদ ১: উত্তরা ফায়েদাবাদ দুর্ঘটনা – ৬ জুন ২০০৫
আজকের প্রথম ঘটনায় ফিরে যাই ২০০৫ সালের ৬ জুনে।
ঢাকার উত্তরা এলাকার ফায়েদাবাদে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি F-7MB প্রশিক্ষণ জেট হঠাৎ করেই স্কুলের পাশের একটি টিনশেড বাড়িতে বিধ্বস্ত হয়।
পাইলট প্যারাসুট ব্যবহার করে প্রাণে রক্ষা পেলেও, নিচে থাকা ৪ জন সাধারণ মানুষ আহত হন।
ঘটনার সময় বিমানটি রুটিন প্রশিক্ষণ ফ্লাইটে ছিল, এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারায়।
তবে, প্যারাসুটটি আংশিকভাবে কাজ করায় পাইলটেরও ঝুঁকি ছিল।
🛩 সংবাদ ২: ঘাটাইল ট্র্যাজেডি – ৮ এপ্রিল ২০০৮
২০০৮ সালের ৮ এপ্রিল, টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে একটি F-7 যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয় প্রশিক্ষণ চলাকালীন।
পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার মোর্শেদ হাসান গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, বিমানে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাবনা ছিল।
এই ঘটনায় কোনো স্বাধীন বা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রকাশ পায়নি।
🛩 সংবাদ ৩: বরিশাল দুর্ঘটনা – ২০ ডিসেম্বর ২০১০
বরিশালে ২০১০ সালের ২০ ডিসেম্বর একটি PT-6 প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুজন স্কোয়াড্রন লিডার – আশরাফ ইবনে আহমেদ এবং মাহমুদুল হক নিহত হন।
বিমানটি অবতরণের সময় আগুন ধরে যায়, যা শেষ পর্যন্ত দুর্ঘটনায় রূপ নেয়।
সরকারিভাবে কার্যকর কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পায়নি, তবে যান্ত্রিক সমস্যাই প্রধান কারণ বলে মনে করা হয়।
🛩 সংবাদ ৪: মাধুপুর L-39 দুর্ঘটনা – ৮ এপ্রিল ২০১২
২০১২ সালের ৮ এপ্রিল, মাধুপুরে একটি Aero L-39 প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়।
পাইলট অফিসার শরিফুল হক ঘটনাস্থলে নিহত হন, এবং স্কোয়াড্রন লিডার মামুনুর রশীদ আহত হন।
ঘটনাটি ঘটেছিল একটি সাধারণ প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে।
মূল কারণ হিসেবে উঠে আসে যান্ত্রিক ত্রুটি।
🛩 সংবাদ ৫: পশ্চিমবঙ্গে জরুরি অবতরণ – ২৬ এপ্রিল ২০১২
পশ্চিমবঙ্গে এক প্রশিক্ষণ ফ্লাইটে PT-6 বিমানটি জরুরি অবতরণ করে।
পাইলট ট্রেইনি রাশেদ শেখ নিরাপদে রক্ষা পান।
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই ল্যান্ডিং হয় বলে জানানো হয়।
তবে কোনো তদন্ত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে আসেনি।
🚁 সংবাদ ৬: ঢাকা বিমানবন্দরে Mi-17 হেলিকপ্টার ক্র্যাশ – ১৩ মে ২০১৫
২০১৫ সালের ১৩ মে, ঢাকার বিমানবন্দরে একটি Mi-17 হেলিকপ্টার ফায়ার ও জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়।
এই ঘটনায় তিনজন ক্রু গুরুতর আহত হন।
তদন্তে জানা যায়, হেলিকপ্টারটি যান্ত্রিক বিভ্রাটে পতিত হয় এবং অবতরণের সময় আগুন ধরে যায়।
🛩 সংবাদ ৭: চট্টগ্রামে নিখোঁজ F-7MB – ২৯ জুন ২০১৫
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ২০১৫ সালের ২৯ জুন একটি F-7MB যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালীন নিখোঁজ হয়ে যায়।
পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহমিদ নিখোঁজ হন, এবং তার লাশ বা বিমানটির কোনো নিশ্চিত চিহ্ন উদ্ধার হয়নি।
বিমানটি রাডার থেকে হারিয়ে যাওয়ার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
🛩 সংবাদ ৮: Yak-130 নিরাপদ ইজেকশন – ১১ জুলাই ২০১৭
২০১৭ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় একটি Yak-130 প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়।
দুইজন পাইলটই নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন।
ঘটনাটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালীন ঘটে এবং ভূমিতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
🛩 সংবাদ ৯: কক্সবাজারে Yak-130 দ্বৈত সংঘর্ষ – ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭
একই দিনে দুটি Yak-130 বিমান প্রশিক্ষণকালে আকাশেই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
চারজন পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, এটি ছিল মিড-এয়ার ট্রেনিং কোলিশন।
🚁 সংবাদ ১০: শ্রীমঙ্গলে Mi‑17 হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা – ৩ জানুয়ারি ২০১৮
একটি Mi-17 হেলিকপ্টার, যাতে কুয়েতি প্রতিনিধিদল ছিল, শ্রীমঙ্গলে জরুরি অবতরণ করে।
হেলিকপ্টারটি প্রযুক্তিগত সমস্যায় পড়লেও সকল যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে রক্ষা পান।
🛩 সংবাদ ১১: যশোরে K-8W দুর্ঘটনা – ১ জুলাই ২০১৮
রাতের প্রশিক্ষণ ফ্লাইটে একটি K-8W বিমান যশোরে বিধ্বস্ত হয়।
নিহত হন স্কোয়াড্রন লিডার মোঃ সিরাজুল ইসলাম এবং এনায়েত কবির পলাশ।
ঘটনার সময় খারাপ আবহাওয়া ছিল বলে জানানো হয়।
🛩 সংবাদ ১২: মাধুপুরে F-7BG দুর্ঘটনা – ২৩ নভেম্বর ২০১৮
মাধুপুরে একটি F-7BG যুদ্ধবিমান নিম্ন উচ্চতায় গ্লাইডিংয়ের সময় জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যায়।
উইং কমান্ডার আরিফ আহমেদ দীপু নিহত হন, কারণ লো-অ্যাল্টিচিউড ইজেকশন ব্যর্থ হয়।
🛩 সংবাদ ১৩: পতেঙ্গা Yak‑130 দুর্ঘটনা – ৯ মে ২০২৪
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় একটি Yak-130 প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয় রানওয়ের কাছাকাছি।
পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার আসিম জাওয়াদ নিহত হন, সহ-পাইলট ইজেক্ট করে বেঁচে যান।
ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিনবার এয়ার রোল করার পর গতির হিসাব ভুলে গিয়ে রানওয়েতে সংঘর্ষ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়।
🛩 সংবাদ ১৪: ভয়াবহতম ট্র্যাজেডি – মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত – ২১ জুলাই ২০২৫
২০২৫ সালের ২১ জুলাই, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি F-7BGI যুদ্ধবিমান মিরপুরের মাইলস্টোন স্কুলে বিধ্বস্ত হয়।
এই ঘটনায় ১ জন পাইলটসহ অন্তত ১৯ জন স্কুলছাত্রী ও শিক্ষক নিহত হন, আহত হন ১৬০ জনেরও বেশি।
ঘটনার সময় পাইলট জনবহুল এলাকা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শেষ পর্যন্ত বিমানটি স্কুল ভবনে আঘাত হানে।
0 Comments